• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরিস্থিতি! পবিত্র রমজান ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে তিরাশি টি মসজিদে ঈদ উপহার। কুমিল্লা থেকে ছিনতাই গাড়ি মুন্সিগঞ্জে উদ্ধার! সায়েম সোবহান আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি ‘পারসন অব দ্যা ইয়ার’ ভূষিত হলেন। উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদ এ ১৫০০ পরিবারের মাঝে এাণ সামগ্রী বিতরন। লক্ষীপুর জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পিতা- মাতার রোগ মুক্তি কামনা জন্য দোয়াও মিলাদের আয়োজন। ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নে দোয়া ও আলোচনা। জাতীয় শ্রমিক লীগের লক্ষ্মীপুর জেলা সহ বিভিন্ন জেলা কমিটি বিলুপ্ত নিয়ে সকল মিথ্যা বানোয়াট এর অবসান লক্ষীপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর “স্বপ্নযাত্রা” অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেন জেলা প্রশাসক। লক্ষীপুরে জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ।
ব্রেকিং নিউজ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৭৪৪ জনের। একই সময়ে করোনায় মারা গেছেন ২৬৪ জন। যা একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ ‍মৃত্যু। বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। লক্ষীপুর-২ আসনের উপ-নিবাচন ২১ জুন,২০২১। গত ২৪ ঘন্টা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু সংখ্যা ৭৭, এবং করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫,৩৪৩ লক্ষীপুরে মেঘনা ফেরীতে আগুন, পুড়ে গেছে অনেক মালামাল ও ৬টি যানবাহন। সীমিত পরিসরে এভারের লকডাউনে আদালত চলবে। রমজান মাসে সরকারি অফিস চলবে ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা। ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক এম.পি আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আগামী ৫এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ ফের লকডাউন সারা বাংলাদেশ, এক প্রেস ব্রিফিং এ–ওবায়দুল কাদের। দেশের ৩১ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে লক্ষীপুর। গত ২৪ ঘন্টা করোনা শনাক্ত লক্ষীপুর-১০ সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, মেলা বন্ধের সুপারিশ কারিগরি পরামর্শক কমিটির।

নাইজেরিয়া: পুলিশি নিপীড়ন নিয়ে বিক্ষোভ কীভাবে চিরতরে বদলে দিয়েছে দেশটিকে

Amar Shomoy / ৬১২ বার
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

নাইজেরিয়ায় পুলিশের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনরোষ এমন এক জোরালো আন্দোলন তৈরি করেছে যা সরকারের ক্ষমতার ভীত নড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু দু সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল এই জনরোষের পরিণতি কি? বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির হাউসা ভাষা বিভাগের সম্পাদক আলিউ টানকো:

পুলিশের নিপীড়িনের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভ এবং সেইসাথে সোশাল মিডিয়ায় সমান্তরাল আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে তা আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশে নজিরবিহীন।
ক্ষমতাসীনদের আচরণ বিনাবাক্যে মেনে নেওয়ার প্রচলিত সংস্কৃতি ভেঙ্গে পড়েছে নাইজেরিয়ায়।

ডাকাতি-রাহাজানি বন্ধে সৃষ্ট সার্স নামে পুলিশের বিশেষ বাহিনীকে ভেঙ্গে দেওয়ার দাবিতে এই আন্দোলনে গতকাল পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই মারা গেছে ৬৯ জন।

‘#এন্ড সার্স‘ (সার্স ভেঙ্গে দাও) হ্যাশট্যাগ যেমনি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেইসাথে ক্ষমতাসীনদের কর্তৃত্ব-নির্দেশে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর সাহস আগুনের মত ছড়িয়ে পড়েছে নাইজেরিয়ায়।

রাজধানী লেগোসের অত্যন্ত সম্মানিত রাজার (নাইজেরীয় ভাষায় ‘ওবা’) প্রাসাদ ভাঙচুরকে জনরোষের একটি মাপকাঠি হিসাবে দেখা হচ্ছে। আলঙ্কারিক হলেও লেগোসের ওবা বা রাজা এবং তার প্রাসাদ নাইজেরীয়দের কাছে বহু যুগ ধরে অত্যন্ত সম্মানের। তরুণ-যুবকরা সেই প্রাসাদে ঢুকে রাজার সিংহাসন উপড়ে ফেলে তছনছ করেছে। রাজার জিনিসপত্র লুট করেছে, এবং প্রাসাদের পুকুরে তারা সাঁতার কেটেছে।

পুলিশের বিতর্কিত এবং ঘৃণিত একটি বিশেষ স্কোয়াড ভেঙ্গে দেওয়ার দাবিতে শুরু হয়েছিল যে বিক্ষোভ, তা এখন নাইজেরিয়ার ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। নাইজেরীয় তরুণ প্রজন্ম এখন রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন চাইছে।

‘বারুদের ডিপো‘

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশের তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলুসেগুন ওবাসাঞ্জো ২০১৭ সালে মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা একটি বারুদের ডিপোর ওপর বসে রয়েছি।”

নাইজেরিয়ার ২০ কোটি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি লোকের বয়স ২৪ এর নিচে। কিন্তু কর্মক্ষম এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশেরই স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান নেই। উন্নতমানের শিক্ষার সুযোগ সীমিত। এ বছর সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানই বলছে নাইজেরিয়ার ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে।

নাইজেরীয় লেখক এবং অধিকার আন্দোলনকারী গিম্বা কাকান্ডা বলেন, ক্ষমতাসীনরা শুরুর দিকে এই বিক্ষোভকে তরুণ-যুবকদের স্বাভাবিক আবেগের বিশৃঙ্খল বহি:প্রকাশ হিসাবে দেখছিল।

“তারা (ক্ষমতাসীনরা) #এন্ড সার্স বিক্ষোভকে নেহাতই তারুণ্যের একটা স্বাভাবিক আচরণ হিসাবে দেখছিল। তারা ভাবছিল যে পাত্তা না দিলে এটি এমনিতেই একসময় বন্ধ হয়ে যাবে,“ বিবিসিকে বলেন তিনি।

“এই মনোভাবের কারণে রাজনীতিকরা শুরুতে এই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করেছে, কিন্তু এখন তারা প্রায় খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।“

এই আন্দোলন এখন কোন্ দিকে মোড় নেবে?

বিক্ষোভের চাপে যেভাবে সরকার সার্স ভেঙ্গে দেওয়ার এবং পুলিশের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নাইজেরিয়ার তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে যে তারা পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

বিক্ষোভ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে আন্দোলনকারীরা নিজেদের মধ্যে শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। জরুরি ভিত্তিতে একে অন্যের সাহায্যে যাতে ছুটে যেতে পারে, তার জন্য তারা একটি হেল্প-লাইন প্রতিষ্ঠা করতে তারা সক্ষম হয়। আইনি সহায়তার ব্যবস্থা শুরু হয়। এমনকি একটি রেডিও স্টেশনও তারা চালু করে।

মানুষজন স্বতঃ:স্ফূর্ত হয়ে এসব কাজে পয়সা জুগিয়েছে। এ ধরনের সাড়া এবং অংশগ্রহণকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে যে ”অসৎ রাজনীতিকদের খপ্পর থেকে বাঁচলে নাইজেরিয়া কত ভালো দেশ হতে পারে।”

রাজনীতিকদের ভাবমূর্তি সেদেশে খুবই খারাপ। মানুষজন মনে করে তারা দেশের উন্নতির চেয়ে নিজেদের পকেট ভর্তির ফন্দিতে ব্যস্ত থাকেন।

তবে এই আন্দোলনের একটি কুৎসিত দিকও সামনে হাজির হয়েছে।

সিংহভাগ তরুণ আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে চাইলেও, একটি অংশ এটিকে সুযোগ হিসাবে দেখেছে। এই অংশটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করেছে, লুটপাট করেছে। গুদামে হামলা চালিয়েছে এবং অনেক পরিচিত রাজনীতিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করেছে।

তবে আন্দোলনের শরিক দুই পক্ষের ক্ষোভ প্রকাশের ধরণ দু-রকম হলেও, একটি বিষয়ে তারা এক: ক্ষমতাসীনদের প্রতি অনাস্থা-অবিশ্বাস-ক্ষোভ।

‘বুহারি বুঝতে পারেননি‘

তবে সরকার এটা নিয়ে সচেতন যে দারিদ্র এবং বেকারত্ব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, বলছেন লেখক এবং অধিকার কর্মী মি. কাকান্ডা। ”সরকারের মধ্যে বোধোদয় হচ্ছে যে সবকিছু আগের মত আর চলতে পারেনা।”

কিন্তু তারপরও এই ক্ষোভ দমনে সরকার একের পর এক যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

ব্লগার এবং কলামিস্ট জাফেত ওমোজুয়া বলেন, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট মুহামাদু বুহারি জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে এই আন্দোলনের কারণ এবং সরকারের করণীয় সম্পর্কে তার ”অস্পষ্ট ধারণা” প্রতিফলিত হয়েছে।

মি বুহারি বিক্ষোভ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন “কিন্তু ন্যায়বিচার চাওয়ার জন্য তিনি মানুষকে হুমকি দিয়েছেন।”

তারপরও মি ওমাজুয়া বিশ্বাস করেন #এন্ডসার্স আন্দোলনে কিছু অর্জন হবেই। তার মতে – ক্ষমতা বদলের লক্ষ্যে মনোনিবেশ না করে, আন্দোলনকারীদের এখন উচিৎ পুলিশের সংস্কার এবং অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যেন তারা সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, এটা করতে পারলে তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করবে। বিক্ষুব্ধ দুটো সপ্তাহ এবং বিশেষ করে ২০মে অক্টোবর রাজধানী লেগোসে বিক্ষোভের ওপর গুলি নাইজেরিয়ার মানুষ হয়তো দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

ক্ষমতাসীনরা এখন উদ্বিগ্ন যে বিপুল সংখ্যক এই তরুণ-যুবকদের আকাঙ্ক্ষা-প্রয়োজন অবজ্ঞা করা কতটা বিপজ্জনক। এ ধরনের গণ-আন্দোলন যে সংগঠিত রূপ পাচ্ছে তাও এবার চোখের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

ফেমিনিস্ট কোয়ালিশনের মতো এমন সব নাগরিক সংগঠন এই আন্দোলনে টাকা-পয়সা দিয়ে সমর্থন জুগিয়েছে যাদের নাম আগে তেমন শোনাই যায়নি।

এই বিষয়টি ক্ষমতাসীনদের বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।

পুলিশের নির্যাতন নিয়ে এই বিক্ষোভ-আন্দোলন নাইজেরিয়ার রাজনীতিকে চিরতরে বদলে দেবে কারণ তরুণ সমাজ বুঝতে পারছে তারা কতটা শক্তিধর, এবং ঐক্যবদ্ধ হলে তারা লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম।-বিবিসি


এ জাতীয় আরো খবর
close button